ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গত সন্ধ্যায় বিশিষ্ট চলচ্চিত্র শিল্পী ওমর সানী এক অনন্য বক্তব্য দিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি মঞ্চে উঠে বলেন, ‘নায়ক‑চাবুক দুটোই বদলাতে পারে, কিন্তু ওমর সানী বদলায় না’। এই উক্তি তার দীর্ঘদিনের অভিনয় দর্শন ও নীতির প্রতি অটুট বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য হয়েছে। উপস্থিত শিল্পী, সাংবাদিক ও দর্শকগণ তৎক্ষণাৎ তার এই বক্তব্যের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা শুরু করেন এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সূচনা হয়।
ওমর সানী বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয়। তিনি ‘নায়ক’ ও ‘চাবুক’ চরিত্রে সমানভাবে পারদর্শী হওয়ায় দর্শকের হৃদয়ে বিশেষ স্থান অর্জন করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চলচ্চিত্র শিল্পে বাণিজ্যিক চাপ, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উত্থান তাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তবুও তিনি কখনোই তার অভিনয় শৈলী বা নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেননি; তার এই অটলতা তাকে সমসাময়িক শিল্পীদের মধ্যে আলাদা করে তুলেছে।
ওমর সানীর এই মন্তব্যের পর চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেন। চলচ্চিত্র পরিচালক রমেশ চৌধুরী বলেন, ‘ওমর সানীর নীতিবোধ আমাদের শিল্পের মেরুদণ্ড। তিনি যে কোনো সময়ে নায়ক হোক বা চাবুক, তার কাজের গুণমান অপরিবর্তিত থাকে’। অন্যদিকে, চলচ্চিত্র সমালোচক শারমিনা হক যুক্তি দেন, ‘এই ধরনের অটলতা শিল্পের স্বতন্ত্রতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ, তবে নতুন ধারার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও সমানভাবে জরুরি’। সাধারণ দর্শকগণও সামাজিক মাধ্যমে তার উক্তিকে প্রশংসা করে মন্তব্য করে, ‘ওমর সানীর স্বচ্ছতা ও সততা আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়’।
সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ও চলচ্চিত্র সঞ্চালনা সংস্থা এই ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেয়। তারা ওমর সানীর মতামতকে শিল্পের নৈতিক মানদণ্ডের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে, এবং ভবিষ্যতে এমন নীতি-নির্ধারণে শিল্পীদের স্বতন্ত্রতা রক্ষার জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করে। এছাড়া, ওমর সানীর আসন্ন চলচ্চিত্র প্রকল্পের জন্য সরকারী সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা তার অটল নীতি ও শিল্পের উন্নয়নকে একসাথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।