গত সপ্তাহে শহরের এক গৃহে দুজন নারী অল্প সময়ের ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেন। প্রথম নারী, মাইদা নামে এক কিশোরী, মৃত্যুর দুদিন আগে তার বোনকে একটি ছবি পাঠিয়ে লিখেছিলেন, “আপা, ও আমাকে আজও মারছে।” ছবিতে স্পষ্টতই শারীরিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। দুই দিন পর, মাইদার বোনও একই গৃহে আত্মহত্যা‑সদৃশ পদ্ধতিতে মারা যান। স্থানীয় পুলিশ জানায়, উভয়ের স্বামীই হিংসার মূল দায়ী এবং ঘটনাস্থলে গৃহস্থালীর গোপনীয়তা ভেঙে গিয়ে গৃহহিংসা চিত্রটি উন্মোচিত হয়েছে। এই দু'টি মৃত্যুর ঘটনা সমাজে গৃহহিংসার তীব্রতা ও তৎকালিক হস্তক্ষেপের অভাবকে পুনরায় উন্মোচিত করেছে।
গৃহহিংসা সমস্যার পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৯৯৯ হটলাইন থেকে জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, নারী নির্যাতনের ৬২ শতাংশ কল স্বামীর বিরুদ্ধে করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান দেশের গৃহস্থালীর মধ্যে পুরুষ-নারী সম্পর্কের অশান্তি ও শোষণের গভীরতা নির্দেশ করে। বিশেষ করে শহুরে ও গ্রামীণ উভয় ক্ষেত্রেই স্বামী‑স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ক্রমবর্ধমান। পূর্বে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, গৃহহিংসার শিকার নারীরা প্রায়ই সহায়তা চাওয়ার জন্য ফোন কল করতে দ্বিধা করে, ফলে সমস্যার পরিধি কমে যায়।
ঘটনার পরপরই মানবাধিকার সংস্থা, নারী অধিকার সমিতি এবং স্থানীয় নাগরিক গোষ্ঠী তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তারা দাবি করে, স্বামী‑হিংসার শিকার নারীদের সুরক্ষার জন্য জরুরি সুরক্ষা আদেশ এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলাটি কঠোরভাবে তদন্ত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট স্বামীকে গৃহহিংসা আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে, প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের সাক্ষ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রমাণের ভিত্তি শক্তিশালী করা হবে। সাধারণ জনগণও সামাজিক মিডিয়ায় এই দু'টি মৃত্যুকে নিন্দা করে, গৃহহিংসা বিরোধী আইন প্রয়োগে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানায়।
অধিকর্তা দিক থেকে, গৃহহিংসা মোকাবিলায় ইতিমধ্যে গৃহহিংসা বিরোধী আইন (২০০৯) সংশোধনের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়েছে। সরকার গৃহহিংসা শিকার নারীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা হটলাইন, জরুরি শেল্টার এবং মানসিক পরামর্শ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি, পুলিশ ইউনিটে গৃহহিংসা বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য ‘ডি-ভায়োলেন্স টাস্ক ফোর্স’ গঠন করা হবে। ভবিষ্যতে, গৃহহিংসা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, স্কুল ও কলেজে লিঙ্গ সমতা শিক্ষা এবং কর্মস্থলে নারী সুরক্ষা নীতি শক্তিশালী করার মাধ্যমে এই ধরণের দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।