প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ সদর বগুড়া
নিউজ সদর বগুড়া বগুড়া সদর বগুড়া
. | gr164737@gmail.com
জাতীয়

খিলগাঁও থানার ওসি শফিকুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হল

খিলগাঁও থানার ওসিসি শফিকুল ইসলামকে আজ রাত্রি নয় টার পরে সদর দপ্তরে ডেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ সার্ভিসের (এমপিএস) উপ‑পুলিশ কমিশনার (উত্তর) শহিদুল
প্রতিবেদক: মোঃ গুলজার রহমান প্রকাশ: Sep 21, 2026 প্রিন্ট: 16 Oct 2026, 07:21 PM
খিলগাঁও থানার ওসি শফিকুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হল

খিলগাঁও থানার ওসিসি শফিকুল ইসলামকে আজ রাত্রি নয় টার পরে সদর দপ্তরে ডেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ সার্ভিসের (এমপিএস) উপ‑পুলিশ কমিশনার (উত্তর) শহিদুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ওসিসি শফিকুল ইসলামকে তৎক্ষণাৎ তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে এবং তিনি এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেননি। এই পদক্ষেপটি স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ও পুলিশ কর্মীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, কেউ এটি ন্যায়সঙ্গত বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন, আবার অন্যরা স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ার দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে দ্রুতই তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনসাধারণের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।

শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগগুলি প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় নাগরিকদের দ্বারা দায়ের করা হয়। অভিযোগের মূল বিষয় ছিল থানায় আসা অভিযোগকারীদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং প্রক্রিয়াগত লঙ্ঘন। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো স্থানীয় পুলিশ হেল্পলাইন এবং মানবাধিকার সংস্থার নজরে এলে, তদনুযায়ী একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শফিকুল ইসলাম কিছু ক্ষেত্রে প্রোটোকল অনুসরণে ব্যর্থ হয়েছেন এবং কিছু অভিযোগে প্রমাণের অভাব রয়েছে। তবুও, অভিযোগের পুনরাবৃত্তি এবং জনসাধারণের আস্থা হ্রাসের কারণে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে।

শফিকুল ইসলাম এই পদক্ষেপের পর একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি সবসময় আইন মেনে কাজ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন যে, তার বিরুদ্ধে চালু করা তদন্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত রয়েছে এবং তিনি ন্যায়সঙ্গত বিচারের প্রত্যাশা করছেন। অপরদিকে, অভিযোগকারী গ্রুপের প্রতিনিধি জানান, তাদের লক্ষ্য ছিল থানার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, এবং শফিকুল ইসলামের পদচ্যুতি তাদের জন্য অগ্রহণযোগ্য। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, ওসিসি সরিয়ে দেওয়া হলো নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর অস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে, তবে তারা আশা করেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্রুতই পরিস্থিতি স্থিতিশীল করবেন। সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে বিশাল আলোচনা চলেছে, যেখানে অধিকাংশ ব্যবহারকারী ন্যায়সঙ্গত তদন্তের দাবি করছেন।

মেট্রোপলিটন পুলিশ সার্ভিসের উপ‑পুলিশ কমিশনার শহিদুল হক জানান, শফিকুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি স্বল্পমেয়াদী দায়িত্বশীল কর্মকর্তা খিলগাঁও থানায় নিযুক্ত করা হয়েছে, যিনি তৎক্ষণাৎ কার্যক্রম চালু করবেন। এছাড়া, তদন্ত কমিটি রিপোর্টের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতে পুলিশ সংস্থার অভ্যন্তরীণ তদারকি শক্তিশালী করতে নতুন নীতি প্রণয়ন করা হবে, যাতে অনুরূপ অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে, উচ্চতর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ সদর বগুড়া