প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ সদর বগুড়া
নিউজ সদর বগুড়া বগুড়া সদর বগুড়া
. | gr164737@gmail.com
জাতীয়

বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সংবিধান সংশোধনের পরামর্শ সম্পাদকদের

ঢাকা—সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে দেশের প্রধান দৈনিক পত্রিকাগুলোর সম্পাদক সমিতি আজ এক সম্মেলনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে
প্রতিবেদক: মোঃ গুলজার রহমান প্রকাশ: Sep 27, 2026 প্রিন্ট: 16 Oct 2026, 06:44 PM
বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সংবিধান সংশোধনের পরামর্শ সম্পাদকদের

ঢাকা—সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে দেশের প্রধান দৈনিক পত্রিকাগুলোর সম্পাদক সমিতি আজ এক সম্মেলনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। সমিতির সভাপতি শ্রী মুহাম্মদ রশিদ ঘোষণায় উল্লেখ করেন, বর্তমান সংবিধানিক কাঠামো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের ওপর যথাযথ সমন্বয় না থাকায় শাসনব্যবস্থার কার্যকারিতা ও জাতীয় ঐক্যের ওপর প্রভাব পড়ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংশোধনের আলোচনায় বিরোধী দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে রাজনৈতিক সংলাপের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুদৃঢ় হবে।

সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি পূর্বে কয়েকবার উত্থাপিত হলেও রাজনৈতিক পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৯১ সালের সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর থেকে বহুবার সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে, তবে অধিকাংশই পার্লামেন্টের দ্বিমত ও জনমতভেদের কারণে আটকে গিয়েছে। বিশেষত মৌলিক অধিকার, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সংবিধানিক সংস্থা সমূহের স্বতন্ত্রতা সংক্রান্ত ধারাগুলোতে ধারাবাহিক সমালোচনা রয়ে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সংবিধানিক কাঠামোর আধুনিকীকরণে চাহিদা তীব্রতর হয়েছে, যা এই সমিতির প্রস্তাবের পেছনে মূল প্রেরণা।

সম্পাদক সমিতির প্রস্তাবের পর বিরোধী দলের জাতীয় সংসদীয় নেতা শ্রী হাবিবুর রহমানের মন্তব্যে দেখা যায়, তিনি সমিতির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “সংবিধান সংশোধনে সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয়ই একমাত্র কার্যকর পথ”। তবে কিছু বিশ্লেষক ও নাগরিক সংগঠন সমিতির প্রস্তাবের প্রতি সংশয় প্রকাশ করে, কারণ তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে যে সংবিধানিক পরিবর্তন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হতে পারে। সামাজিক মিডিয়া ও গণমাধ্যমে এই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে; সাধারণ জনগণের মধ্যে সংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি দুটোই সমানভাবে আলোচিত হচ্ছে।

অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ও আইন প্রণেতা এখন সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দিচ্ছেন। সরকারও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে পরামর্শের জন্য একটি উচ্চস্তরের টাস্কফোর্স গঠন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যার লক্ষ্য হবে প্রস্তাবিত সংশোধনী ধারাগুলোর বিশদ বিশ্লেষণ ও জনমত সংগ্রহ। ভবিষ্যতে যদি এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে সংবিধানিক কাঠামো আধুনিক চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সংশোধনের বাস্তবায়ন পর্যন্ত সময়সীমা, প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণের মাত্রা নির্ধারণকারী মূল বিষয়গুলো এখনও স্পষ্ট নয়।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ সদর বগুড়া