প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ সদর বগুড়া
নিউজ সদর বগুড়া বগুড়া সদর বগুড়া
. | gr164737@gmail.com
আন্তজাতিক

জিয়াউল আহসানের মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হতে পারে অক্টোবরে: প্রসিকিউটর মিজানুল

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) এর হ্যালের মধ্যে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম জানান, জিয়াউল আহসানের মামলার যুক্ত
প্রতিবেদক: মোঃ গুলজার রহমান প্রকাশ: Sep 27, 2026 প্রিন্ট: 18 Oct 2026, 06:02 PM
জিয়াউল আহসানের মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হতে পারে অক্টোবরে: প্রসিকিউটর মিজানুল

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) এর হ্যালের মধ্যে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম জানান, জিয়াউল আহসানের মামলার যুক্তিতর্ক অক্টোবর মাসে সমাপ্ত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তিতর্কের সমাপ্তি মানে বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে প্রবেশ এবং রায়ের জন্য অপেক্ষা করা। এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সময়োপযোগিতা নিশ্চিত করার দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। জিয়াউল আহসান, যিনি পূর্ববঙ্গের এক সংঘাতকালে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত, তার মামলার অগ্রগতি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মামলাটি ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের হয় এবং তখন থেকে বহু সাক্ষী ও প্রমাণ উপস্থাপিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রমাণের বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল বহুবার সেশন পরিচালনা করেছে।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় সংঘটিত নির্দয় হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই ঘটনাগুলোকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়ী করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। পূর্বে মামলাটির প্রাথমিক তদন্তে প্রায় দুইশো সাক্ষীর বর্ণনা, শতাধিক নথি ও ফটোগ্রাফিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রক্রিয়াটি ধীরগতিতে অগ্রসর হয়েছে। এই পটভূমি বিবেচনা করে, যুক্তিতর্কের সমাপ্তি ট্রাইব্যুনালের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য হয়।

প্রসিকিউটরের এই ঘোষণার পর মানবাধিকার সংস্থা ও আইন বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন মন্তব্য প্রকাশ করেছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বাঙালি শাখার প্রধান শ্রীমতি রেহানা বললেন, যুক্তিতর্কের দ্রুত সমাপ্তি ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে, তবে রায়ের ন্যায়সঙ্গততা নিশ্চিত করা জরুরি। অপরদিকে, কিছু ভুক্তভোগীর পরিবার এখনও মামলার ফলাফলের ওপর অনিশ্চিত, কারণ রায়ের দিকনির্দেশনা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমিত চৌধুরী উল্লেখ করেন, এই মামলাটি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি দেশের আস্থা বাড়াতে পারে, তবে যদি রায়ে কোনো অবহেলা দেখা দেয় তবে তা দেশীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

ট্রাইব্যুনালের প্রশাসনিক দল ইতিমধ্যে রায়ের খসড়া প্রস্তুত করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে চূড়ান্ত মন্তব্যের জন্য আহ্বান জানাবে। এছাড়া, যুক্তিতর্কের সমাপ্তির পর রায় প্রকাশের পূর্বে আপিলের সুযোগও থাকবে, যা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ট্রাইব্যুনাল আশা করে, অক্টোবরের শেষের দিকে রায়ের খসড়া প্রকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যাবে যে যুদ্ধাপরাধের জন্য কোনো সুরক্ষা নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলার দ্রুত সমাধান ন্যায়বিচার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে এবং ভুক্তভোগীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সান্ত্বনা প্রদান করবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ সদর বগুড়া