মুমিনের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি অতিথি হিসেবে আচরণ সংক্রান্ত ছয়টি মৌলিক নীতি তুলে ধরেছেন, যা সামাজিক শিষ্টাচারকে পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অন্যের ঘরে প্রবেশের সময় স্বাগতিকের স্বাচ্ছন্দ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত; অতিরিক্ত সময় বসে থাকা, স্বাগতিকের ব্যক্তিগত সময় বা দৈনন্দিন রুটিনে হস্তক্ষেপ করা অনুচিত। এই বক্তব্যের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হল, আধুনিক জীবনের দ্রুতগতির পরিবেশে পারস্পরিক সম্মান ও শালীনতা বজায় রাখতে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা। মুমিনের এই পরামর্শ সামাজিক মেলামেশার মানদণ্ডকে সমন্বয় করার সম্ভাবনা রাখে।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তা সংস্কৃতি শতাব্দী ধরে গড়ে উঠেছে, যেখানে অতিথিকে ঈশ্বরের সমান মর্যাদা দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নগরায়ণ ও কর্মজীবনের চাপের ফলে এই প্রথা প্রায়শই বিকৃত হয়ে দাঁড়ায়; স্বাগতিকের গৃহে অতিরিক্ত সময় কাটানো, অনধিকার প্রবেশ বা অপ্রয়োজনীয় কাজের অনুরোধ সাধারণ হয়ে উঠেছে। মুমিনের এই ছয়টি বিষয়—যেমন স্বাগতিকের অনুমতি ছাড়া খাবার গ্রহণ না করা, অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন এড়িয়ে চলা, এবং স্বাগতিকের ঘরের নিয়ম মেনে চলা—প্রথাগত শিষ্টাচারকে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে চায়। এভাবে পুরনো রীতির সঠিক ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের মাধ্যমে সামাজিক সমন্বয় পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
মুমিনের বক্তব্য প্রকাশের পর সাধারণ মানুষ ও সামাজিক বিশ্লেষকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেক তরুণ পাঠক মন্তব্য করেছেন, “এখনই সময় যখন আমরা অতিথি-স্বাগতিকের সম্পর্ককে পুনর্নির্মাণের দরকার।” কিছু সংস্কৃতি গবেষকও উল্লেখ করেছেন, এই নীতিগুলো পরিবারিক ও পেশাগত পরিবেশে সমানভাবে প্রয়োগযোগ্য। অন্যদিকে, কিছু সমালোচক যুক্তি দিয়েছেন যে অতিরিক্ত নিয়মাবলী সামাজিক মেলামেশাকে কঠোর করে তুলতে পারে। তবুও, মুমিনের স্পষ্ট ও বাস্তবমুখী পরামর্শের ফলে জনমত অধিকাংশই সম্মত হয়েছে যে, স্বাগতিকের স্বাচ্ছন্দ্য রক্ষা করা সামাজিক শান্তি ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তি।
এই আলোচনার প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে কর্মসূচি চালু করেছে; স্কুল ও কলেজে অতিথি শিষ্টাচার বিষয়ক কর্মশালা আয়োজন, এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। সরকারও “আতিথেয়তা ও শালীনতা” বিষয়ক নীতি প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই নীতিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। ভবিষ্যতে মুমিনের এই ছয়টি নীতি জাতীয় স্তরে গ্রহণযোগ্যতা পেলে, সামাজিক মেলামেশার মানোন্নয়ন এবং পারস্পরিক সম্মান বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।