প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
NEWS 9
NEWS 9 বগুড়া সদর বগুড়া
01742393876 | gr164737@gmail.com
আন্তজাতিক

চতুর্থ দফায় রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা

গত শনিবার রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চতুর্থ দফা হামলা সংঘটিত হয়, যা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত
প্রতিবেদক: মোঃ গুলজার রহমান প্রকাশ: Oct 11, 2026 প্রিন্ট: 16 Oct 2026, 01:07 PM
চতুর্থ দফায় রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা

গত শনিবার রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চতুর্থ দফা হামলা সংঘটিত হয়, যা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত এই হামলায় মোট ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত। বিমানবন্দরের টার্মিনাল এ প্রবেশদ্বারে বিস্ফোরক বসিয়ে আত্মঘাতী হামলাকারীরা একাধিক সিভিল ও নিরাপত্তা কর্মীকে লক্ষ্যবস্তু করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ জরুরি সেবা দল ত্বরিত পৌঁছায়, আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রভাবের ফলে বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

রিয়াদ বিমানবন্দরে পূর্বে তিনটি সমমানের সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা দুর্বলতার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রথম তিনটি দফা প্রত্যেকটি আলাদা সময়ে ঘটলেও সবার লক্ষ্য একই—বড় জনসমাগমের স্থানকে অশান্ত করা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগকে ব্যাহত করা। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা উচ্চপ্রোফাইল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে। রিয়াদ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। এছাড়া, পূর্ববর্তী দফাগুলোর তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যগুলো নতুন হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

হামলার পর বাংলাদেশী দূতাবাস দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় স্থাপন করেছে এবং আহত ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রিয়াদের সুরক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মুখে একাধিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে; তারা বলেছে যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি দ্রুত সনাক্ত করে সংশোধন করা হবে এবং দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় জনগণ ও আন্তর্জাতিক পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবে একই সঙ্গে রিয়াদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ঘটনাটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করে শিকারের পরিবারকে ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ ও মানসিক সহায়তা প্রদান করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে রিয়াদের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় তৎক্ষণাৎ একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার প্রধান দায়িত্ব ঘটনার মূল কারণ ও দায়ী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী চিহ্নিত করা। পাশাপাশি, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করে অতিরিক্ত স্ক্রিনিং, সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি এবং প্রবেশদ্বার পর্যবেক্ষণ শক্তিশালী করা হবে। বাংলাদেশ সরকারও শিকারের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও মানসিক পরামর্শ প্রদান করার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যৌথ অপারেশন চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এমন ধরণের হামলা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ সদর বগুড়া