ঢাকার সড়কে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিশোর গ্যাংয়ের ‘বড় ভাই’ পরিবর্তনের ফলে অপরাধের মাত্রা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। পুলিশ জানায়, গত সাত বছর অর্ধে শহরে মোট ৬৩৫টি অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৯টি হিংসাত্মক হত্যাকাণ্ড। এই সংখ্যা পূর্ববর্তী পাঁচ বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতির তীব্র অবনতি নির্দেশ করে। বিশেষত রাতের বেলা, পাবলিক পরিবহন ও বাজারে গ্যাং সদস্যদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে।
কিশোর গ্যাং গঠনের পেছনে দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো মূল ভূমিকা পালন করে। বেকারত্বের হার বৃদ্ধি, শিক্ষার সুযোগের সীমাবদ্ধতা এবং পারিবারিক তত্ত্বাবধানে ঘাটতি তরুণদের অপরাধের পথে ধাবিত করে। পূর্বে গ্যাংকে ‘বড় ভাই’ হিসেবে পরিচিত এক প্রাক্তন অপরাধী, যিনি ২০১৯ সালে গ্রেফতার হয়ে সাজা পেয়েছিলেন, তার পর থেকে গ্যাংয়ের নেতৃত্বে ধারাবাহিক পরিবর্তন ঘটেছে। নতুন ‘বড় ভাই’ অধিক আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে, গ্যাং সদস্যদের মধ্যে অস্ত্রের ব্যবহার ও মাদকদ্রব্যের লেনদেন বাড়িয়ে তুলেছে। এই পরিবর্তন গ্যাংয়ের কাঠামোকে আরও স্বৈরাচারী ও হিংসাত্মক করে তুলেছে।
পুলিশের মুখপাত্র অধিকারী রাব্বি হাবিবের মতে, গ্যাংয়ের উত্থান নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছি, তবে গ্যাংয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল কাঠামো মোকাবিলায় আরও সমন্বিত কৌশল দরকার।” শহরের মেয়রও গ্যাং সমস্যাকে ‘শহরের নিরাপত্তা সংকট’ বলে উল্লেখ করে, স্থানীয় সমাজসেবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অপরাধের শিকার পরিবারগুলো গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ও পুনর্বাসন প্রোগ্রাম চায়।
অধিকারে, ঢাকা মেট্রো পুলিশ ও স্থানীয় থানা গুলিতে গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান চালু করা হয়েছে। গ্যাং সদস্যদের শনাক্তকরণে মুখমণ্ডল স্বীকৃতি সফটওয়্যার এবং ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি, যুব মন্ত্রণালয় তরুণদের জন্য দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে, যাতে গ্যাংয়ের আকর্ষণ কমে যায়। ভবিষ্যতে গ্যাংবিরোধী আইন প্রণয়নে কঠোর শাস্তি ও সম্পত্তি জব্দের বিধান যুক্ত করা হবে বলে সরকারী সূত্র জানিয়েছে। এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।