দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাবিবুর রহমান উপস্থিত না হওয়ার সিদ্ধান্ত সরকার আজ প্রকাশ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বৈঠকের সময়সূচি ও আলোচ্যসূচিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে, বিশেষত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এই সংস্থার প্রথম শীর্ষ সম্মেলনে দেশের প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিমসটেক (বিহার, ভারত, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, এবং বাংলাদেশ) ১৯৯৭ সালে গঠিত হয়, তবে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কার্যকরী কাঠামো গড়ে তুলতে ব্যর্থ ছিল। ২০২৩ সালে প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং বাংলাদেশকে হোস্ট দেশের ভূমিকায় রাখা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতির পেছনে স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা সরকার উল্লেখ করেছে, তবে কিছু বিশ্লেষক এটিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবাদ বা নীতিগত পার্থক্যের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। অতীতেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে, যা দেশের কূটনৈতিক স্বার্থে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতি সম্পর্কে জানিয়ে বলেছে যে, তিনি জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে ভ্রমণ করতে অক্ষম এবং এই বিষয়ে তিনি দূর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিরোধী দল ও কিছু নাগরিক সংগঠন এই সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব অপরিহার্য। বিশ্লেষকরা যুক্তি দেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতি বিমসটেকের আলোচ্য বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষত বাণিজ্য, শক্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমঝোতায়।
সরকার বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতি পূরণে উপযুক্ত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে বৈঠকে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও ভ্রমণ পরিকল্পনা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকার বিমসটেকের পরবর্তী পর্যায়ে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য অতিরিক্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত আঞ্চলিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।