বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকার সমিতি গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের হোটেল রুমে একটি জরুরি বৈঠক আয়োজন করে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক হিসাব খোলার সময় ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) নিবন্ধনের অব্যাহতি দাবি করে। সমিতির প্রধানের মতে, বর্তমান ভ্যাট নীতি ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনকে অতিরিক্ত বোঝা দেয় এবং তাদের ঋণপ্রাপ্তি ও নগদ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এই দাবি দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগাবে বলে সমিতি জোর দিয়ে বলেছে।
ভ্যাট আইন ১৯৯১ অনুসারে, সকল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে তাদের সেবার ওপর ভ্যাট সংগ্রহ ও নিবন্ধন করতে হয়। তবে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) ক্ষেত্রের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত মূলধন ও নগদ প্রবাহের সমস্যায় ভুগছে। পূর্বে সরকার কিছু সেক্টরে ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান করলেও, ব্যাংকিং সেবার ওপর এই সুবিধা প্রযোজ্য হয়নি। ফলে, ছোট উদ্যোক্তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে অতিরিক্ত করের বোঝা বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের ব্যবসা শুরু করার ইচ্ছাকে দমিয়ে দেয়। এই পটভূমিতে ব্যাংকারদের দাবি উঠে এসেছে।
বৈঠকে সমিতির প্রধান শ্রীমতি রেহানা আহমেদ উল্লেখ করেন, “ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং সেবা সহজলভ্য করা আমাদের দায়িত্ব, আর ভ্যাটের অতিরিক্ত বোঝা তা বাধা দেয়। অব্যাহতি পেলে তারা দ্রুত লেনদেন করতে পারবে এবং আর্থিক সেক্টরে তাদের অংশগ্রহণ বাড়বে।” সরকারের আর্থিক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও এই দাবিকে স্বীকার করে বলেন, “আমরা ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নে সবসময়ই সহায়ক নীতি গ্রহণের চেষ্টা করেছি, তবে ভ্যাট নীতির পরিবর্তন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।” একই সঙ্গে, কিছু ছোট ব্যবসার মালিকও সমিতির সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, “ভ্যাটের অতিরিক্ত খরচ আমাদের নগদ প্রবাহকে সংকুচিত করে, ফলে ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।” তবে কিছু বিশ্লেষক ভ্যাট অব্যাহতি দিলে রাজস্বে প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশ করেন।
সরকারি পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে বিষয়টি বিশ্লেষণ করার ঘোষণা দিয়েছে। টাস্ক ফোর্সে অর্থনীতিবিদ, কর বিশেষজ্ঞ ও ব্যাংকিং প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত হবে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করবে বলে জানানো হয়েছে। যদি অব্যাহতি প্রদান করা হয়, তবে তা ছোট উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়িয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, সরকার ভ্যাটের বিকল্প আয় উৎস সৃষ্টির পরিকল্পনা করে রাজস্বের ভারসাম্য রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।