তাসরিফ খান আজ তার অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ গানের কণ্ঠ নকল করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা অডিও ফাইলের বিরুদ্ধে তিনি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘোষণাটি সঙ্গীত শিল্পে কণ্ঠ নকলের অননুমোদিত ব্যবহারকে ঘিরে বেড়ে চলা বিতর্কের নতুন মোড় যোগ করেছে। তাসরিফের এই পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হল, এটি শিল্পী অধিকার রক্ষার জন্য একটি স্পষ্ট সংকেত এবং কপিরাইট আইনকে শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক কণ্ঠ নকল প্রযুক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত উন্নত হয়েছে; বিভিন্ন সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মে স্বল্প সময়ে স্বর নকল করা সম্ভব হয়েছে। পূর্বে কিছু অনলাইন সেবা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনপ্রিয় গানের কণ্ঠ নকল করে বিক্রি করত, যা শিল্পী ও রেকর্ড লেবেল উভয়েরই বিরোধের সৃষ্টি করেছিল। তাসরিফের গানের ক্ষেত্রে, অননুমোদিত নকলের ফলে তার স্বর ও সুরের স্বকীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শ्रोतাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
সম্মেলনে তাসরিফ খান স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “আমার কণ্ঠের স্বত্ব আমারই, এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের দ্বারা অননুমোদিত ব্যবহার আমার শিল্পী পরিচয়কে ক্ষুণ্ন করে।” তিনি এ বিষয়ে সঙ্গীত শিল্পের সমিতি, রেকর্ড লেবেল এবং আইনি বিশেষজ্ঞদের সমর্থনও দাবি করেছেন। জনসাধারণের মধ্যে এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়া মিশ্র; কিছু ভক্ত তার পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে শিল্পী অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে সমর্থন প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে কিছু তরুণ ব্যবহারকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সৃজনশীল সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
অধিকারের দিক থেকে, তাসরিফের আইনজীবী দল ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার প্রদানকারী ও বিতরণকারীদের বিরুদ্ধে নকলের প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। পাশাপাশি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং কপিরাইট অফিসকে এই ধরনের কণ্ঠ নকলের নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতি প্রণয়নের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক কণ্ঠ নকলের ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণের জন্য স্পষ্ট আইনগত কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে, এবং শিল্পী ও স্রষ্টাদের স্বত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে।