সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগে বিএনপির সিনিয়র নেতা, মি. রাহিমুল হক, গ্রেপ্তার হন। ঘটনাটি ঘটেছে ১২ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে, যখন পুকুরের পানিতে হালকা বিষাক্ত গন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানির নমুনা সংগ্রহ করে এবং রাহিমুল হকের বিরুদ্ধে বিষ প্রয়োগের সন্দেহে গ্রেপ্তার আদেশ জারি করে। গ্রেপ্তারের সময় হককে সশস্ত্র পুলিশ গার্ডে আবদ্ধ করে গ্রেপ্তারি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এই অভিযোগের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। রাহিমুল হক, যিনি বিএনপির আঞ্চলিক শাখার প্রধান, বহুবার বিরোধী দলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন। পুকুরটি একটি বিদেশি পর্যটক গ্রুপের মালিকানাধীন, যাদের সদস্যরা সম্প্রতি বাংলাদেশে ভ্রমণরত ছিলেন। পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সন্দেহ প্রকাশ পায়। পূর্বেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপির মুখপাত্র, মি. সুলতান আহমেদ, গ্রেপ্তারের পর একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের নেতা নির্দোষ এবং এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা আদালতে সব প্রমাণ উপস্থাপন করব।’ পুলিশ প্রধান, মি. ইমরান, মন্তব্য করেন, ‘অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং প্রমাণ সংগ্রহের পর আদালতে উপস্থাপন করা হবে।’ বিদেশি পর্যটক গ্রুপের প্রতিনিধি, মি. জনসন, বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং দ্রুত সমাধান আশা করি।’ জনসাধারণের মধ্যে এই ঘটনার প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মতামত প্রকাশিত হচ্ছে।
অপরাধ তদন্ত বিভাগ (এআইডি) ঘটনাস্থল থেকে পানির নমুনা ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছে। পুলিশ গ্রেপ্তারি হেফাজতে রাহিমুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে এবং তাকে গ্রেপ্তারি হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালতকে অবহিত করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযোগ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগকে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।