সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত মিত্র জোট গতকাল রাতেই ইয়েমেনের উত্তরে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সমন্বিত বিমান ও নৌবাহিনীর আক্রমণ চালু করেছে। এই আক্রমণটি হুতিদের সাম্প্রতিক রকেট ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। জোটের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, হুতিদের অবৈধ সশস্ত্র কার্যক্রম রোধে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ত্রিপলিয়ার সরকারবিরোধী বিদ্রোহের সঙ্গে শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত জোটের সরাসরি হস্তক্ষেপের দিকে ধাবিত হয়। জোটের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত এবং অন্যান্য গুলফ গার্ড দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত, যারা হুতিদের ইরানীয় সমর্থনকে আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। বছরের পর বছর চলমান যুদ্ধের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ মানবিক সংকটে ভুগছে, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার ও আশ্রয়ের অভাব বাড়ছে।
সৌদি জোটের মুখপাত্র আজকের আক্রমণকে “হুতিদের অবৈধ সশস্ত্র কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া” বলে উল্লেখ করে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবিক সহায়তা দ্রুত সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। হুতি বিদ্রোহী নেতা হুসেইন আল-হুসেইনও টুইটারে জোটের আক্রমণকে “অবৈধ ও নিষ্ঠুর” বলে নিন্দা করে, এবং “ইসলামিক জোটের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী রকেট চালু করা হবে” বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী অফিস (ওয়াচ) এই আক্রমণকে “বেসামরিক নাগরিকদের উপর অতিরিক্ত ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে” বলে সতর্ক করেছে এবং তাত্ক্ষণিক বিরতি দাবি করেছে।
অধিকাংশ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং মানবিক সংস্থা জোটকে আহ্বান জানাচ্ছে যে, সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান খোঁজা উচিত। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে হুতিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতাকারীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি, জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা জরুরি ত্রাণ সামগ্রী এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য নিরাপদ করিডোর স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে। ভবিষ্যতে যদি সংলাপের পথ না খুলে, তবে অঞ্চলের নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট আরও বাড়তে পারে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বৃহত্তর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।