ওসমান হাদি হত্যার মামলায় তদন্তকারী সিআইডি (সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) কর্তৃক অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা আবার পেছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ অনুসারে প্রথমবারের মতো ২০ বার সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে মামলার সমাধান ও ন্যায়বিচার বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এই মামলাটি দেশের নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা পরীক্ষা করছে, কারণ ওসমান হাদি ২০২২ সালে এক অপ্রত্যাশিত গুলিতে নিহত হন এবং তখন থেকে তার পরিবার ও সমাজের মধ্যে ন্যায়বিচারের দাবি তীব্রভাবে গুঞ্জরিত হচ্ছে।
ওসমান হাদির মৃত্যু ১৫ আগস্ট ২০২২ তারিখে ঢাকা শহরের উত্তরাঞ্চলের এক বাণিজ্যিক এলাকায় ঘটেছিল। ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে দুইজন স্থানীয় অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়। তবে গ্রেফতারের পরেও গুলির উৎস ও গুলি চালানোর উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হওয়ায় মামলাটি উচ্চ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। এরপর থেকে সিআইডি মামলাটি নিয়ে বহুবার তদন্তের অগ্রগতি জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে; প্রথমে ৩ মাসের সময়সীমা নির্ধারিত হয়, পরে তা দু'বার বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়, এবং সর্বশেষে ২০ বার সময় বাড়িয়ে মোট দুই বছর ছাড়িয়ে গেছে।
মামলার শিকার পরিবারের প্রধান সদস্য শফিকুল ইসলাম গুজবের মুখে রাগ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, 'আমাদের সন্তানকে ন্যায়ের সামনে আনা এখনো অবধি অসম্ভব হয়েছে; সময় বাড়িয়ে দেওয়া মানে ন্যায়বিচারকে বিলম্বিত করা'। আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ধারাবাহিক সময়সীমা বাড়ানো আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতার ওপর প্রশ্ন তুলবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় বিচারিক হস্তক্ষেপ বাড়তে পারে। সাধারণ জনগণও সামাজিক মাধ্যমে এই মামলাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, যেখানে অধিকাংশ মন্তব্যে দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করা হচ্ছে।
অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সিআইডি যে ২০ বার সময় বাড়িয়েছে, তা আদালত এখন পর্যন্ত অনুমোদন করেছে, তবে বিচারিক পর্যবেক্ষকরা সতর্কতা প্রকাশ করে বলেছেন, ভবিষ্যতে অতিরিক্ত সময় বাড়ানো হলে মামলার দায়িত্বশীলদের উপর কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা থাকবে। সরকারও এই বিষয়টি নিয়ে গৃহীত বিশেষ কমিটি গঠন করে তদন্তের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছে এবং সিআইডি-কে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আদেশ জারি করেছে। শেষ পর্যন্ত, যদি সিআইডি সময়মতো প্রতিবেদন না দেয়, তবে আদালত অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে, যা মামলাটির দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করবে।