গাজীপুরের কাশিমপুরে একটি মাদ্রাসায় দুই শিক্ষার্থীকে নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়ার ঘটনায় তিনজন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীরা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষাঙ্গনের কর্মকর্তারা এই নিষ্ঠুর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি তুলেছেন। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকেও ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকরা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রতি সহিংস আচরণ করে আসছিলেন। গত শুক্রবার এক শিক্ষার্থীর পরিবার বিষয়টি অবগত হয়ে মাদ্রাসায় যান। তারা দেখেন, তাদের সন্তানসহ আরেক শিক্ষার্থীর শরীরে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়ার চিহ্ন রয়েছে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা চিৎকার করে উঠলে এলাকাবাসী জড়ো হন। পরে তারা একজন শিক্ষককে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাকি দুই শিক্ষককেও গ্রেপ্তার করে।
আহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছেলেদের শরীরে বড় ধরনের পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন রয়েছে। তারা দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা মাদ্রাসার এই নিষ্ঠুর আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটলে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থাও ক্ষুণ্ন হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন ও গুরুতর আহত করার অভিযোগে দায়িত্বে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে মাদ্রাসাগুলোতে নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এছাড়া, শিক্ষকদের আচরণিক মানদণ্ড পুনঃনির্ধারণের প্রস্তাবও উঠে এসেছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে।