সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিন মিলিয়নের বেশি অনুসারী নিয়ে গর্বিত কঙ্গনা শর্মা, একক মা হিসেবে ফ্যাশন‑ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে উত্থান লাভ করেছেন। তিনি নগ্নতা বা অশ্লীলতার বদলে সঠিক পোশাকের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ও স্বতন্ত্রতা প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছেন। তার এই প্রচেষ্টা দেশের তরুণী নারীদের জন্য নতুন রোল মডেল হিসেবে কাজ করছে এবং ডিজিটাল যুগে নারীর স্বনির্ভরতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কঙ্গনা শর্মার জীবনের পটভূমি চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ। গৃহবিচ্ছেদের পর আর্থিক সংকটে পড়া তিনি নিজের গৃহস্থালির দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে ফ্যাশন ক্ষেত্রে স্বশিক্ষা গ্রহণ করেন। স্থানীয় বাজারে সাশ্রয়ী পোশাকের স্টাইলিং করে প্রথমে বন্ধু ও আত্মীয়দের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন, এরপর সামাজিক মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে ধীরে ধীরে অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তার সৃষ্টিশীলতা ও বাস্তবধর্মী পরামর্শের ফলে তিনি দ্রুতই দেশের অন্যতম শীর্ষ ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে স্বীকৃতি পান।
কঙ্গনা শর্মা তার অনুসারীদের কাছে বলেন, “ফ্যাশন হল আত্মপ্রকাশের একটি মাধ্যম; নগ্নতা নয়, সঠিক পোশাকের মাধ্যমে আমরা আমাদের আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে পারি।” তার এই বক্তব্যে নারীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সামাজিক বিশ্লেষকরা সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, “কঙ্গনা শর্মার মত সিঙ্গেল মা যারা নিজের পরিশ্রমে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা সমাজে নারীর অবস্থান উন্নত করতে সহায়ক।” তার পোস্টে প্রকাশিত পোশাকের টিপস ও বাজেট‑সাশ্রয়ী স্টাইলের ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা দেখা গেছে এবং স্থানীয় পোশাক শিল্পে নতুন চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি দিক থেকে, তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নৈতিক বিষয়বস্তু নিশ্চিত করার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে এবং ফ্যাশন‑ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি, সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু দমন ও সঠিক তথ্য প্রচারের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হবে। ভবিষ্যতে কঙ্গনা শর্মার মতো সৃজনশীল নারী উদ্যোক্তাদের সমর্থন বাড়িয়ে দেশের ফ্যাশন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে তুলে ধরার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।