বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্য জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, ঔপন্যাসিক ও অনুবাদক কেতকী কুশারী ডাইসন ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসমস্যাতে ভুগছিলেন তিনি, তবে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ পেয়ে সাহিত্যপ্রেমীরা হতভম্ব হয়ে পড়েছেন। তাঁর বিদায়ের সংবাদটি শুনে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত সাহিত্যিক বৃত্তে শোকের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। কেতকী কুশারী ডাইসন তাঁর অনন্য কবিতা, গভীর চিন্তাধারা ও সমাজসমালোচনামূলক রচনায় পাঠকের মনে অমর ছাপ ফেলে গেছেন। তাঁর মৃত্যু কেবল একজন লেখকের বিদায় নয়, বরং বাংলাদেশের সাহিত্য ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
কেতকী কুশারী ডাইসন ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন সাহিত্যিক। তিনি মূলত কবিতার মাধ্যমে সাহিত্য জগতে প্রবেশ করেন, তবে তাঁর ঔপন্যাসিক ও অনুবাদক হিসেবে অবদানও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর রচনায় সমাজের অসমতা, নারী-পুরুষের সম্পর্ক, মানবিক মূল্যবোধ ও আধুনিকতার দ্বন্দ্ব নিয়ে গভীর আলোচনা রয়েছে। তিনি তাঁর সময়ের অন্যতম প্রগতিশীল চিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর রচনাসমূহে ভাষার মধুরতা, ছন্দময়তা ও গভীর দার্শনিক চিন্তার সমন্বয় রয়েছে, যা পাঠকের মনে সহজেই স্থান করে নেয়। দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন এবং তাঁর রচনাসমূহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হয়ে পাঠকের কাছে পৌঁছেছে।
তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ পেয়ে দেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক, কবি, গবেষক ও রাজনৈতিক নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে বলা হয়েছে, কেতকী কুশারী ডাইসন ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ লেখক যিনি তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ অংশ সাহিত্যের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। তাঁর রচনাসমূহ আগামী প্রজন্মের জন্য একটি মূল্যবান ঐতিহ্য হিসেবে থেকে যাবে। সাহিত্যপ্রেমীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন এবং তাঁর রচনাসমূহ পুনরায় পড়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাঁর মৃত্যুতে সাহিত্য জগত একজন অমর কণ্ঠ হারিয়েছে, যা সহজেই পূরণ করা সম্ভব নয়।
কর্তৃপক্ষ ও সাহিত্য সংগঠনগুলো তাঁর স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। বাংলাদেশের সাহিত্য অ্যাকাডেমি ও অন্যান্য সংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা ও সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁর রচনাসমূহের নতুন সংস্করণ প্রকাশ করা এবং তাঁর সাহিত্যিক অবদান নিয়ে গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে তাঁর স্মরণ রক্ষা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর রচনাসমূহ পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকায় আগামী প্রজন্ম তাঁর চিন্তাধারা ও সাহিত্যিক অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে। কেতকী কুশারী ডাইসনের মৃত্যু বাংলাদেশের সাহিত্য ঐতিহ্যের একটি বড় ক্ষতি, তবে তাঁর রচনাসমূহ চিরকাল পাঠকের মনে বেঁচে থাকবে।